বাঘিনী আজ প্রচণ্ড রেগে আছে।
রাগে পুরো ফুসফুস করছে।
ভয়ে বাঘ মামা কুপোকাত।বাড়ি যাবে কি যাবেনা এই নিয়ে ভাবনায় পড়ে গেছে।বউ তার যেমন রাগী তেমন বদ মেজাজি।একটু কিছু হলে অবস্থা খারাপ।
তবে এই বিপদ থেকে একমাত্র বেড় করতে পারে শেয়াল পণ্ডিত।শেয়ালের অসীম বুদ্ধি।বাঘ মামা সেই বুদ্ধির ওপর ভরসা করে পণ্ডিতের কাছে গেলো।
শেয়াল বাঘের উপস্থিতি দেখে দু'পা পিছিয়ে বললো "গরীবের ঘরে বাঘের পাড়া।এ কেমন উপহাস।আমি ঠিক দেখছি?নাকি চোখের ভুল।জীবন কি তবে ধন্য!"
বাঘ ক্ষেপে গিয়ে বললো "উপহাস করোনা পণ্ডিত।বড্ড বিপদে পড়ে তোমার কাছে এসেছি।"
"উপহাস নয় মামা।আমি তো স্তব্ধ,শিহরিত।"
"সাট আপ।"
"দুঃখিত!আপনি বিপদ না কি যেন একটা শব্দ বললেন।"
"আর বলোনা ভায়া।কি করতে যে ভৈর জংগলে প্রেম করে বিয়ে করতে গেছিলাম।জীবনটা পুরো সার্কাস বানিয়ে রেখেছে।একটু রেগে গেলে ধরে শুধু মারে।আবার খেতেও দেয় না।"
"আপনি কি ভাবীর কথা বলছেন?"
"তো আর কে?"
"বুঝতে পেরেছি।আসলে মামা,প্রেম বড্ড বাজে জিনিশ।যে করে সে বুঝে।আমি কি আর সাধে সন্নাশ বেশ ধারণ করেছি!একবার প্রেম করে শিক্ষা হয়ে গেছে।ভালবাসতাম খুব।জানিনা বেচারি কেমন আছে!ঠিক মতন খায় কি না।খুব মিস....."
"তুমি কি চুপ করবা?এসেছি আইডিয়া নিতে।তুমি উপন্যাস শুনিয়ে দিচ্ছো।"
"আবারো দুঃখিত মামা।বলেন কি আইডিয়া চাই?"
"গিন্নীকে কিভাবে বশে আনা যায় বলতো?"
"হাহাহা,হুহুহু,হিহিহি।হুক্কা হুয়া।হাসালেন মামা।এরকম কিছু জানা থাকলে কি আর আমি সেকা খেতাম!"
"তা ঠিক।তাও কিছু একটা উপায় বলো।"
"উমমম,গিন্নীর মানে মামীর সবচেয়ে বেশি কি পছন্দ?"
"তা তো জানিনা।তবে জাংকুককে খুব লাইক করে।ক্রস না কি যেন তাঁর প্রতি।"
"ধুর মিয়া।আমি জুয়েলারির কথা বলছি।"
"ওহ্!চুরি।"
"তাহলে ব্যস,ডজন কয়েক চুরি নিয়ে বাড়ি যান।বউ আপনাকে পেট পুরে ভাত খাওয়াবে।"
বাঘ কিছু না বলে দৌড়ে চুরি কিনতে গেলো।
তারপর বাসায় ফিরে দরজায় নক করলো "গিন্নী!ও গিন্নী!"
বাঘিনী ভেতর থেকে জোড় গলায় বললো "চিল্লানোর কিছু নেই।দরজা খোলা আছে।"
বাঘ মামা দরজা ধাক্কা দিয়ে দেখে সত্যি খোলা।
অবশেষে সে চুপি পায় ভেতরে প্রবেশ করলো।
কিন্তু বাঘিনী অন্যপাশে মুঘ ঘুরিয়ে আছে।নিশ্বাসের শব্দে বোঝা যাচ্ছে প্রচণ্ড রেগে আছে।
বাঘ মামা সে রাগ ভাঙাতে ছোট্ট করে বললো "দেখো তোমার জন্য কি...."
কে শোনে কার কথা।সাথে সাথে বাঘিনী বাঘের দিকে ঘুরে চিল্লায়ে বলতে শুরু করলো "কি আর আনবা?সেই পঁচা মাংস!খুব হয়েছে।আর না।বোরিং হয়ে গেছি তোমার সংসার করতে করতে।কত স্বপ্ন কত আশা ছিলো একটু বুঝবা আমায়।কিন্তু কিসের কি?আমার যত ভুল।রাজার বাড়ি থেকে বিয়ের প্রস্তাব এসেছিলো।কেন যে সেটা ছেড়ে তোমার কপালে এসে জুটলাম।অনেক হয়েছে।আজকে বাপের বাড়ি যাবো।"
বাঘ জবাব না দিয়ে চুরি গুলো বাঘিনীর সামনে ধরলো।
তারপর আর কি লাগে?
সব রাগ মিটে পানি।এক লাফে চুরি গুলো নিয়ে বাঘকে জড়িয়ে ধরে বললো "ইসস আমার সোনাটা।জানুটা,ময়নাটা।কত্ত ভালবাসে আমাকে।তুমি কিন্তু আমায় বাপের বাড়ি যেতে দিবা না।চলো আজ তোমাকে হরিণের মাংস রান্না করে খাওয়াবো।
বাঘ বাঘিনীর আচমকা পরিবর্তন দেখে হতভম্ব।চুরির এত পাওয়ার?
যাহ্ শালা,আজ থেকে বউ রাগ করলে চুরি নিয়ে আসবো।যত বেশি রাগবে ততো বেশি চুরি দিবো।প্রয়োজনে দোকান কিনে দিবো।তবু রাগ মিটুক।

Post a Comment

Previous Post Next Post